১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় জাপানি ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘লাভ লেটার’। যেখানে আবহ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল জাপানের তুষারাবৃত নিরিবিলি শহর ওতারু। সিনেমার মতো দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতি শীতে রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান। হোক্কাইডো দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত নিভৃত শহরটি এখন জাপানের অতিরিক্ত পর্যটনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে প্রবেশ ও রাস্তা অবরোধের মতো অসংযত আচরণ রোধে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করেছে। বিদেশী পর্যটকদের ওপর বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা। গত ২১ জানুয়ারি ৬১ বছর বয়সী এক পর্যটক ওতারুর আসারি স্টেশনে ছবি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। তবে ওতারু সিটি হল জানিয়েছে, এ মৃত্যুর আগেও পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ শহরে সমস্যা তৈরি করছিল। লাখখানেক জনসংখ্যার এ ছোট শহরে গত বছর রাত্রি যাপন করেছেন ৯৮ হাজার ৬৭৮ আন্তর্জাতিক পর্যটক, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তা বন্ধ করা ও ময়লা ফেলার মতো আচরণ এ শহরে নিষিদ্ধ এবং এসব নিয়ম লঙ্ঘন করলে জরিমানা দিতে হবে। ব্যস্ত সময়কালে স্থানীয় পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে। এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তত ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ওতারু কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পর্যটকদের ইংরেজি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষায় সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করেছে যে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু চীনা পর্যটকদের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নেয়া হয়েছে। ওতারুর মতো অন্য জাপানি শহরও অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে সমস্যায় পড়েছে। বিখ্যাত কিছু পর্যটন অঞ্চল অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের স্বাগত জানালেও মূলত স্থানীয়দের জীবনযাত্রার ভারসাম্য রক্ষা এবং অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে জাপান। খবর সিএনএন ও ছবি গেটি ইমেজেস